হযরত থানবী (রহঃ) ইরশাদ করেন, হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহ) বলেন যে, ইবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের মনে যেসব ওয়াসওয়াসা ও প্রবঞ্চনা এসে থাকে তা দূর করার জন্য খুব বেশী তাড়াহুড়া করা উচিত নয়, এমনটি ক্ষতিকর হয়ে থাকে। হযরত গংগুহী (রহঃ) আরাে বলেন, চিন্তা করা উচিত যে, উদ্দেশ্য হলাে আল্লাহ তা'আলাকে রাজি ও খুশী করা আর তা অর্জিত হয় নিজের সম্ভব পরিমাণ সময় অন্তরকে অন্যসব চিন্তা ফিকির থেকে মুক্ত রেখে ইবাদতের মধ্যে লিপ্ত থাকার মাধ্যমে। এরপরেও যেসব ওয়াসওয়াসা ও প্রবঞ্চনা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনের মধ্যে সৃষ্টি হয় সেটা ক্ষতিকর নয়। তাই এ কারণে বেশী অস্থির হয়ে পড়বে না। এর পরেও মনে ওয়াসওয়াসা ও প্রবঞ্চনা সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়ে থাকে সেটা মুজাহাদার অন্তর্ভুক্ত। এর জন্য সে মুজাহাদার সওয়াব লাভ করবে। এজন্য আমার খেয়ালে ঐ ইবাদত যার সাথে ওয়াসওয়াসা ও প্রবঞ্চনা থাকে তাতে সওয়াব ও পুরস্কার অধিক লাভ হয়ে থাকে। একটি হলাে ইবাদতের সওয়াব আর অপরটি হলাে মুজাহাদার সওয়াব। (তবে সেজন্য শর্ত হচ্ছে, নিজের ইচ্ছায় ওয়াসওয়াসা ও প্রবঞ্চনাকে লালন করা যাবে না। এবং তা অনুসন্ধান করা যাবে না।) সর্বদা যথার্থ একাগ্রতা তো পরিপূর্ণ বড় বড় ব্যক্তিদের লাভ হয় না। সেক্ষেত্রে যদি কোন সালেক বা সাধক একাগ্রতায় স্বল্পতা অনুভব করে, তবে মানসিকভাবে খুব অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এটিও রহস্য থেকে খালি নয় কারণ এর দ্বারা সবর ও ধৈর্যের সওয়াব লাভ হয়ে থাকে। হাফেজ সিরাজী (রহঃ) খুব সুন্দর বলেছেন-
মালি যদি কিছুদিন ফুলের সংস্পর্শে থাকতে চায় তবে ফুলের কাঁটার আঘাতের কষ্টে তাকে বুলবুলি পাখির মত ধৈর্য ধারণ করতে হবে। হে মন! তুমি মুসীবতের জালে আবদ্ধ হয়ে ধৈর্যহারা হয়ে যেও না। (তুমি কি দেখ না?) যেসব পাখি চালাক তারা শিকারীর জালে আবদ্ধ হয়ে ধৈর্য ধারণ করে (কারণ সে জানে যদি এখানে অধৈর্য হয়ে হা-হুতাশ শুরু করি তবে আরো বেশি আটকে যাবাে।)
সারকথা হলো, নামাজ ও ইবাদতের মধ্যে ওয়াসওয়াসা ও প্রবঞ্চনা থেকে বেঁচে থাকা এবং মনকে একাগ্রচিত্ত রাখা ঐ পরিমাণ আবশ্যক যতটুকু নিজের সাধ্যে আছে। কিন্তু এর পরেও যদি তার মধ্যে কিছুটা স্বল্পতা পরিলক্ষিত হয়, তবে তা আল্লাহ পাকের উপর ছেড়ে দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। কবির ভাষায়—
তুমি যদি শান্তির আশায় বাদশার দরবার থেকে ভেঙে যাও তবে তোমার কপালে ভোগান্তি থাকলে দেখবে সেখানে তোমার সামনে একটা মুসীবত এসে দাঁড়াবে। দুনিয়ার কোন স্থান শান্তির নয়, সেখানে কোন একটা কষ্ট বা ব্যথা অবশ্যই ভােগ করতে হবে। (তবে শান্তির স্থান হলাে নির্জনতা) আল্লাহ পাকের সাথে যথার্থ নির্জনতা ব্যতীত আর কোথাও আরাম নেই।
উৎসঃ মাজালিশে হাকীমুল উম্মত | পৃষ্ঠা-১২৬

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন