"Bangla Islamic Articale" হলো বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য কুরআন, সহীহ হাদীস ও নির্ভরযোগ্য স্কলারদের মতামতের ভিত্তিতে লেখা একটি জ্ঞানকোষ। আকীদা, ফিকহ, সীরাত, জীবনযাপন এবং সামাজিক বিষয়াবলির উপর মানসম্মত প্রবন্ধ পড়ুন। পিডিএফ (PDF) বই এবং প্রবন্ধ ডাউনলোডের সুবিধা সহ ইসলামকে জানুন, বুঝুন ও দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করুন।

Full-Width Version (true/false)

শনিবার, ২৯ মে, ২০২১

যে ব্যক্তি রমযান মাসের রোযা পালনের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখবে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল


প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'যে ব্যক্তি রমযানের রােযা রাখার পরে পরেই শাউয়াল মাসে ৬টি রােযা রাখে, সে যেনাে পূর্ণ এক বছর (৩৬০ দিন) রোযা রাখার সমান সওয়াব লাভ করা। (মুসলিম ১১৬৪, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ।)


এই সওয়াব এই জন্য যে, উম্মতে মুহাম্মাদির যে কেউ একটি ভালাে কাজ করলে আল্লাহর অনুগ্রহে সে তার ১০ গুণ সওয়াব পাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "কেউ কোনো ভালো কাজ করলে সে তার ১০ গুণ প্রতিদান পাবে।"

(সুরা আল-আন'আম, আয়াত ১৬০)।


অতএব, এই ভিত্তিতে ৩০+৬ = ৩৬ টি রোযা রাখলে ৩৬x১০=৩৬০অর্থাৎ চন্দ্র মাস অনুযায়ী সারা বছর রোযা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে।


আল্লামা ইবনে রজব রহ. বলেন, শাউয়াল মাসে রােযা রাখার তাৎপর্য অনেক। রমজানের পর শাওয়ালের রোযা রাখা রমযানের রোযা কবুল হওয়ার আলামত স্বরূপ। কেননা আল্লাহ তাআলা কোন বান্দার আমল কবুল করলে, তাকে পরেও অনুরূপ অমল করার তৌফিক দিয়ে থাকেন। নেক আমলের প্রতিদান বিভিন্ন রূপ। তার মধ্যে একটি হলো পুনরায় নেক আমল করার সৌভাগ্য অর্জন করা। তাই নামাজ রােযা ও অন্যান্য ইবাদত বাকি এগার মাসেও চালু রাখা চাই। কেননা যিনি রমযানের রব, বাকি এগার মাসের রব তিনিই।


তিনি আরো বলেছেন, তবে ইবাদতের মোকাবেলায় গুনাহের কাজ করলে নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়। অতএব, কোন ব্যক্তি রমযানের পরপরই হারাম ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে, তার সিয়াম স্বীয় মুখের উপর নিক্ষেপ করা হয়। এবং রহমতের দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। গুনাহের পর ভাল কাজ করা কতইনা উৎকৃষ্ট আমল। কিন্তু তার চেয়ে আরাে উৎকৃষ্ট আমল হলাে নেক কাজের পর আরেকটি নেক কাজে মশগুল হওয়া। অতএব, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা কর, যাতে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত হকের উপর অটল থাকার তৌফিক দান করেন। সাথে সাথে অন্তর বিপথে যাওয়া থেকে পরিত্রাণ চাও। কেননা আনুগত্যের সম্মানের পর নাফরমানির বেইজ্জতি কতইনা নিকৃষ্ট।


সাওবান রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই’মাসের রোযার সমান। সুতরাং এ হলে এক বছরের রোজা।


অপর রেওয়ায়েত আছে, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে শাওয়াল মাসে ছয় দিন রোজা রাখবে সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। (আহমদ : ৫/২৮০, দারেমী : ১৭৫৫)।


আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রেখে সারা বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।


উৎসঃ বারো মাসে করনীয় ও বর্জনীয়


──────⊱◈◈◈⊰─────

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages

SoraTemplates

Best Free and Premium Blogger Templates Provider.

Buy This Template