হযরত থানবী (রহঃ) ইরশাদ করেন, হাদীস শরীফের সাধারণ বিবরণ থেকে উচ্চস্বরে যিকির করার প্রতি নিষেধাজ্ঞার কথাই বুঝে আসে। এবং ইমাম আযম হযরত আবু হানিফা (রহঃ)-এর মাযহাবও তাই। আমাদের বুযুর্গগনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ এবং সচেতন বুযুর্গ ছিলেন হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহঃ)। এক্ষেত্রে তার গবেষণালব্ধ মতামত হচ্ছে, যদি উচ্চস্বরে যিকির করাকে কেউ উত্তম কিংবা অধিক সওয়াব লাভের কারণ হিসেবে গ্রহণ করে তবে তা বিদ'আত হবে। তবে জিকিরে একাগ্রতা সৃষ্টি এবং শয়তানের প্রবঞ্চনা থেকে বাঁচার একটা ব্যবস্থা হিসেবে যদি কেউ উচ্চস্বরে যিকির করে, তবে তাতে কোন ক্ষতি নেই। এর উদাহরণ অবিকল এমন যেমন কারো সর্দি হলে ‘গুলে বানফসা’ (একপ্রকার গুল্ম)-এর তৈরী ঔষধ সেবনকে যদি কেউ বিশেষ ইবাদত এবং সওয়াব হিসেবে গণ্য করে তবে তাও বিদ'আত হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি শুধু একটা ঔষধ বা সর্দি থেকে মুক্তির ব্যবস্থাপত্র হিসেবে গ্রহণ করে তবে বিদআত এর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে আমীর শাহ খান সাহেব হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতবী (রহঃ)-এর কাছ থেকে একটি হাদীসের যে মর্ম ও ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন তা এই বিষয়টির পক্ষে প্রমাণ বহন করে। এক হাদীসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
من أحدث في أمرنا هذا فهو رد
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মাঝে নতুন কোন বিষয়কে সংযােজন করে, সে সংযােজিত বিষয়টি অবশ্যই উপেক্ষাযােগ্য ও পরিত্যাজ্য।
হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতবী (রহঃ) বলেন, উপরােক্ত হাদীসে যে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরােপ করা হয়েছে তা হলাে দ্বীনের মধ্যে নতুন কোন বিষয় সংযোজন করার। তবে দ্বীনের বিধি-বিধানকে যথার্থভাবে কার্যকর করার জন্য যে সকল ওসীলা এবং মাধ্যমের প্রয়ােজন দেখা দেয় সে সবের কথা কুরআন ও হাদীসে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ বা আলােচনা থাকা আবশ্যকীয় নয় সে সব বিষয় সময় ও স্থান-কাল-পাত্র ভেদে উপযুক্ত বিবেচনা করে অবলম্বন করে নেয়া যেতে পারে। যেমন বর্তমান সময়ে হজ্বের জন্য উড়োজাহাজ এবং জিহাদের জন্য ট্যাংক ও এটম বোম ইত্যাদি ব্যবহার করা। এগুলো দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন বলা হবে না বরং দ্বীনের জন্য নতুন সংযােজন বলা যেতে পারে। আর এমনটি হলে তা জায়েয। অনুরূপভাবে যিকিরের মধ্যে একাগ্রতা ও শয়তানী প্রবঞ্চনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য উচ্চস্বরে জিকির করা কিংবা সুফিয়ায়ে কেরাম অনুসৃত কোন পথ বা পন্থা অবলম্বন করা হলে তাও দ্বীনের মাঝে সংযোজন নয় বরং দ্বীনের জন্য সংযোজন বলে বিবেচিত হবে।
উৎসঃ মাজালিসে হাকীমুল উম্মত | পৃষ্ঠা-১৪৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন