আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের উপায়ঃ
════════════════════
হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, আল্লাহ্ পাকের সহিত সম্পর্ক স্থাপন করিতে হইলে:
✾ আবশ্যক পরিমাণ দ্বীনী এলম শিক্ষা করুন। দ্বীনী এলম না শিখিলে আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় এবং অপছন্দনীয় বিষয়ের মধ্যে প্রভেদ করিতে পারিবেন না।
✾ অতঃপর আল্লাহ তাআলার সহিত পাকা ওয়াদা করুন, ভবিষ্যতে কখনও কোন পাপ কার্য করিবেন না। ভবিষ্যতে গােনাহর কাজ না করার পাকা ওয়াদা করাই পূর্বকৃত গােনাহসমূহের প্রকৃত তওবা। তওবার সময়ে পাকা ওয়াদা করিয়া যদি ভুলক্রমে ওয়াদা ভঙ্গ করা হয়, তবে পুনরায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা আবশ্যক। ইহার পরেও যদি আবার ওয়াদা ভঙ্গ করা হয়, তবে ‘ছালাতুত তওবা” অর্থাৎ তওবার নামায পড়িয়া পাকা তওবা করিতে হইবে। শুধু মৌখিক তওবা করিয়া ক্ষান্ত হইলে চলিবে না। এরূপ পাকা তওবা করা নফসে আম্মারাকে বশে রাখিবার প্রকৃষ্ট উপায়। এ যুগে ইহার প্রয়ােজন অত্যধিক হইয়া পড়িয়াছে। কিছুকাল এই উপায় অবলম্বন করিয়া দেখুন, পাপ কার্যের প্রতি ঘৃণা জন্মে কিনা। ইহা বড়ই পরীক্ষিত উপায় এবং অতি সহজও বটে। কোন পাপ কার্য হঠাৎ করিয়া ফেলিলে ওযু করিয়া দুই রাকআত নফল নামায পড়িয়া তওবা করিবেন। প্রতিবার গােনাহর পর এইরূপে তওবা করিলে শেষ পর্যন্ত গােনাহের প্রতি আন্তরিক ঘৃণা এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহ উৎপন্ন হইবেই।
✾ সঙ্গে সঙ্গে কোন কামেল বুযুর্গ লােকের সাহচর্য অবলম্বন করুন। আল্লাহওয়ালা লােকদের সহিত সাক্ষাৎ করিতে থাকুন। তাহাদের নিকট নিজের অবস্থা বর্ণনা করিয়া দ্বীনী কার্যে তাহাদের সাহায্য গ্রহণ করুন। কামেল লােকের সঙ্গ অমােঘ ঔষধ। বিদ্যুতের ন্যায় ক্রিয়া করিয়া থাকে। এই সৎসঙ্গের ফলে অচিরেই দুনিয়া হইতে মন ফিরিয়া আখেরাতের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া পড়িবে।
✾ রাত্রে শয্যা গ্রহণ করিয়া সারাদিনের যাবতীয় কার্যের হিসাব-নিকাশ করিয়া দেখুন, যতগুলি গােনাহের কার্য হইয়াছে, তাহা হইতে আল্লাহ তা‘আলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া ভবিষ্যতের জন্য তওবা করুন।
✾ প্রতিদিন কিছু সময় নির্জনে বসিয়া আল্লাহর স্মরণে ও ধ্যানে কাটাইবেন। এই পাঁচটি কথার উপর আমল করিয়া দেখুন। ইনশাআল্লাহ! তাঁহার সহিত আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপিত হইয়া যাইবে। এত সহজ উপায়েও যদি কেহ হেদায়তপ্রাপ্তির জন্য চেষ্টা না করে, তবে তাহাকে আল্লাহ তা‘আলাই হেদায়ত করুন।
উৎসঃ মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া | খন্ড-১,

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন