নাহমাদুহূ ওয়ানুছাল্লী 'আলা- রাসূলিহিল কারীম।
বুখারী শরীফের এক হাদীসে নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তির উপর লা’নত করেছেন যে ছবি অঙ্কন করে। ছবি অঙ্কন করা, ছবি উঠানো এটা কত গুরুতর অপরাধ, কত বড় গুনাহ, যে কারনে নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির উপর লানত করেছেন, অভিশাপ দিয়েছেন। মানুষকে দেখা যায়, কোন আল্লাহ ওয়ালার অভিশাপকে বড় ভয় পায়। কোন হুযুর বা ইমাম সাহেব যদি কোনো ব্যক্তিকে অভিশাপ দেয়, তার বিরুদ্ধে দোয়া করে তাহলে সে খুব বেশী ভয় পায়। আর যিনি সকল আল্লাহ ওয়ালাদের সরদার, সকল নবী-রাসূলদের সরদার সায়্যিদুল মুরসালীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু তা’য়ালা 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি অভিশাপ দিয়েছেন, লা’নত করেছেন সেই ব্যক্তির উপর যে ছবি অঙ্কন করে। এ থেকে সহজেই বুঝা যায় যে, ছবি অঙ্কন করা, ছবি উঠানো যেমন আমাদের যামানায় ক্যামেরার দ্বারা ছবি উঠায়, মোবাইলের ক্যামেরা বা ফটোগ্রাফাররা যে ক্যামেরা ব্যবহার করে সেটার দ্বারা। তো বিষয় একই। নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় তো মোবাইল ছিলনা বা ক্যামেরা ছিলনা। এজন্য তখন এটা অঙ্কন হিসাবে বলা হয়েছে যাতে সাহাবায়ে কেরাম রাঃ সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারেন। মূল বিষয় হলো প্রাণীর ছবি; সেটা অঙ্কন করে হোক অথবা ক্যামেরা বা মোবাইল দ্বারা উঠানো হোক, বিষয় একই। বরং অঙ্কন করা যে ছবি সেটার চাইতে বহুগুণে চকচকে এবং আকর্ষণীয় হয়, যদি সেটা ক্যামেরার দ্বারা উঠানো হয়। বিশেষ করে এন্ড্রয়েড মোবাইলের যে সিস্টেম, এটার দ্বারা যে ছবি তোলা হয় সেটা খুবই চকচকে হয়ে থাকে।
মোটকথা যেকোন ভাবেই হউক প্রাণীর ছবি মোবাইল দিয়ে তোলা অথবা অঙ্কন করা লানতের কাজ। এজন্য হিসাব করে চলা উচিত। দেড় হাজার বছর যাবৎ যে ছবি হারাম ছিল, সেটাকে এখন অনেকই মনে করতেছে এটা কোনো গুনাহের কাজ না। একটা সু-স্পষ্ট হারাম, যেটার জন্য লানত করা হয়েছে। আমরা আমাদের প্রত্যেকের যতটুকু কল্যাণ কামনা করি, নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রত্যেকের জন্য তার চেয়ে বেশী কল্যাণকামী। (সহীহ বুখারী) এরপরেও নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির উপর লানত করেছেন, যে ছবি উঠায়, ছবি অঙ্কন করে। এজন্য সতর্ক থাকা চাই।
আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে মহাব্বত করে তার তো অবস্থা এই হওয়া চাই যে, নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের তা’লীমের উপর সে নিজের সবকিছুকে কুরবান করে দিবে। নিজের ইচ্ছা, নিজের আকাঙ্খা সবকিছুকে কুরবান করা চাই। আল্লাহ পাক যাল্লাযালালুহু আমাদেরকে তৌফিক দান করেন।
দুনিয়ার হায়াত তো শেষ হয়েই যাবে। খুব দ্রুতই আমাদের হায়াত শেষ হইতেছে। একদিন আমরা সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ব। কবরে চলে গেলে যত চেষ্টাই করা হউক, দুনিয়াতে আর ফিরে আসার কোন সুযোগ থাকবে না। এজন্য হেলায় ফেলায় সময় নষ্ট না করি। কমপক্ষে এতটুকু বুঝার চেষ্টা করা চাই, যে ভাইয়েরা ছবি উঠাইতেছেন দেখা যায় যে, এক এক জনের মোবাইলের মধ্যে শত শত ছবি। নিজের ছবি, নিজের স্ত্রীর ছবি, নিজের সন্তানের ছবি, নিজের মায়ের ছবি, বাপের ছবি, বন্ধুর ছবি, কত জনের ছবি। শত শত ছবি এক এক জনের মোবাইলের মধ্যে। অথচ সেই ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, গায়ে লম্বা জামা আছে, মুখ ভর্তি দাড়ি, মাথায় টুপি পড়ে, দেখলে মনে হয় যে, এক হুজুর যাইতেছে। এ রকম ব্যক্তির মোবাইলে দেখা যায় শত শত ছবি। বড় আফসোসের বিষয়। কমছে কম এতটুকু তো আমরা স্বীকার করতে বাধ্য হবো, যে ছবিগুলো উঠানো হয়েছে, অনর্থক একের পর এক ছবি উঠানো হয়েছে। এতে কি সময় খরচ হয় নাই? সময় কি আল্লাহ পাকের দেওয়া এক মহা মূল্যবান নিয়ামত না?
বুখারী শরীফের এক হাদীসে পাকে নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অধিকাংশ মানুষ দুইটি নেয়ামত হেলায় ফেলায় নষ্ট করে। একটা হচ্ছে অবসর সময়, আরেকটা হচ্ছে সুস্থতা। তো, আমি আমার অবসর সময়ের একটা অংশ এই বেহুদা কাজের মধ্যে খরচ করলাম। আমার হাতে একটা মোবাইল আছে, আর আমি ফটাফট ছবি তোলতেছি। একদম বেহুদা কাজ। এক হাদীসে পাকে এসেছে যে, ইসলামের সৌন্দয্য হচ্ছে অনর্থক কাজ-কাম ছেড়ে দেওয়া। (তিরমিযী)
তো, এই যে একটা অনর্থক কাজ হইতেছে, কেউ যদি বলে যে, এইটা গুনাহ না। তার কথাটা ধরে নিয়ে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, এটা কি অনর্থক কাজ না? এটাতো মুমিনের জন্য শোভনীয় না। সে তার জীবনের এক বড় অংশ খরচ করে ফেলবে ছবি তোলতে তোলতে। আর যখন মানুষের এটি অভ্যাস হয়ে যায়, দেখা যায় যে, সে নিয়মিতভাবেই সে ছবি তোলতেছে। প্রতিদিন, প্রত্যেক সপ্তাহে সে ছবি উঠাইতেছে। এতে তার সময় খরচ হইতেছে না? এতে কি তার মেধা খরচ হইতেছে না? মেধা কি আল্লাহ পাকের দেওয়া এক নিয়ামত না? বহুত বড় এক নেয়ামত। এজন্য হুশে আসা চাই। আল্লাহ পাক যাল্লাযালালুহু আমাদেরকে তৌফিক দান করেন। আমীন...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন