মাহে মুহাররম ও আশূরা: করণীয় ও বর্জনীয় আমলসমূহ
-মুফতী নূর আহমদ
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
প্রতি বছরের ন্যায় নতুন সৌকর্যের সওগাত নিয়ে এবারো এসেছে নব-দিন। উদিত হয়েছে নব-বর্ষের নতুন হিলাল। এই হিলালের নকীব হল মুহাররম। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেল সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না বিজড়িত কতগুলো দিন। দিনগুলো বছর বছর প্রতিটি ঋতুকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে আবার ফিরে এলো নিজ কক্ষে; যেখান থেকে শুরু হয়েছিল। এ চলার নেই কোন অন্ত। যে কারণে মুহাররম মাস কখনো আসছে শীত কালে, কখনো হেমন্ত কালে, কখনো শরৎ কালে, কখনো আবার বর্ষা কালে। লুকিয়ে আছে এ মাসে বিশেষ একটি দিন মুর্হারামের দশম তারিখ। যে দিনটি বিভিন্ন কারণে বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় বরণীয়। এ দিনটি মুসলমান জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। কারণ পৃথিবীর বয়সে বহু বড় বড় ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয়েছে।
মুহাররম মাসের এ দিনটিরই নামকরণ করা হয়েছে আশূরা নামে। আশূরার দিনটি বড় মহৎ ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। উম্মতে মুহাম্মদীর পূর্ব আমল হতেই এর মাহাত্ম্য, শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত। হযরত মূসা (আ.) দীর্ঘদিন পর্যন্ত বনী ইসরাঈলকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিচ্ছিলেন। তাঁর দাওয়াতে একটা বৃহৎ জনপদ আল্লাহর একত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠে এবং হযরত মূসা (আ.)এর অনুসরণ করে আল্লাহ তায়ালার প্রিয় পাত্রে পরিণত হয়।
কিন্তু গদিনশীন সরকার ছিল আত্মম্ভরিতার তুঙ্গে। নাম ছিল তার অলিদ ইব্নে মাসআব ইব্নে রাইহান। নিয়ামতে ইলাহীর সপ্তডিঙ্গায় আরোহী এ নরাধম। এ নাফরমান নিজেকে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করে প্রভুত্ব ফলাচ্ছিল সাধারণ প্রজাদের উপর। আকাশ তলে যমীন চরে আরো প্রভু আছে বটে, তবে তার মত এত বড় কেউ নেই বলে দাবী করেছিল সে। কুরআনুল কারীমের ভাষায়- “আনা রাব্বুকুমুল আ’লা” ছিল তার দাবী যার অর্থ- আমি তোমাদের সব চেয়ে বড় প্রভু।
আল্লাহর প্রিয় বান্দা বনী ইসরাঈল ছিল তার ও তার অনুসারীদের চাকর-চাকরানীর কাতারে। বাধ্যবাধকতা ছিল তাদের উপর কঠিনভাবে চাপানো। অত্যাচার, অনাচারের ষ্ট্রিম রোলার ছিল সর্বদাই গতিশীল। প্রত্যাখাত ছিল তাদের সকল আবদার আবেদন। বালকদের করেছিল হত্যা, আর মহিলাদের করে রেখেছিল দাসী।
তরমুজ বিক্রেতা চাষীর ছেলে যেখানে বড় প্রভু (?) আর আল্লাহর অনুগত বান্দারা যেখানে সাধারণ মযলুম প্রজা, সেখানে কি বিষাক্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
বনী ইসরাঈল গোত্র যালিম ফিরাঊন আর কিবতীদের মার খেতে খেতে কুকুরে শামিল হচ্ছিল, আর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে পরিত্রাণের আশায় প্রহর গুণছিল। ঠিক এমনি সময় একদিন আল্লাহ তায়ালা হুকুম করলেন- “ফাআস্রি বি ইবাদী লাইলান …।” হে মূসা (আ.) আমার প্রিয় বান্দাদের নিয়ে রাতের আঁধারে মিশর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে প্রস্থান কর। যে রজনীতে এ শুভ সূচনার পথ উদঘাটিত হয়েছিল, সমুদ্র চিড়ে আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাঈলকে যেদিন মুক্তির পথ করে দিয়েছিলেন সে দিনটি ছিল পবিত্র আশূরার দিন।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলঃ মাসিক মুঈনুল ইসলাম

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন