চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার শরয়ী হুকুম নিয়ে মুফতি আব্দুল মালেক থেকে আর্টিকেল টি প্রশ্নোত্তরে সাজিয়েছেন
মাওলানা হাবিবুর রহমান
০১৬৭২৩৫১৪৫৩
নামাজের গুরুত্ব ও তারকান
প্রশ্ন ১: ইসলামে নামাজের গুরুত্ব কতটুকু?
উত্তর: ইসলামে নামাজ সবচেয়ে বড় ইবাদত এবং ঈমানের পর সবচেয়ে বড় ফরয। কুরআন ও হাদিসে বারবার নামাজ আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
প্রশ্ন ২: নামাজ কায়েম করার অর্থ কী?
উত্তর: নামাজ কায়েম করার অর্থ হলো, নামাজের ফরজ, আরকান (রুকন), ওয়াজিব, সুন্নত, আদব ও মুস্তাহাব বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হয়ে নামাজ আদায় করা।
প্রশ্ন ৩: নামাজের মূল ভিত্তিগুলো কী কী?
উত্তর: নামাজের মূল ভিত্তি হলো তার আরকান ও ওয়াজিবগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কিয়াম (দাঁড়ানো), কিরাত (কুরআন পড়া), রুকু, সিজদা এবং কা'দা (বসা)।
প্রশ্ন ৪: নামাজের রুহ (মূল আত্মা) কী?
উত্তর: নামাজের রুহ হলো - আদব ও তাওয়াজু (বিনয়), নম্রতা ও বিনয়ের সাথে খুশু-খুজু অবস্থায় আল্লাহ তায়ালার সামনে ছোট হয়ে হাজির হওয়া।
চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার মূল বিধান
প্রশ্ন ৫: নামাজের হাকীকত ও রূহানিয়্যাতের প্রতি খেয়াল করলে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা কেন কল্পনা করা যায় না?
উত্তর: কারণ এতে কিয়ামের ফরজ, রুকু-সিজদার ফরজ এবং তাশাহহুদের জন্য জমিনে বসার হুকুম আদায় হয় না। এছাড়াও নামাজের যে রুহ অর্থাৎ সবিনয়ে আল্লাহ তায়ালার সামনে হাজির হওয়া, তাও এখানে অনুপস্থিত থাকে। কারণ চেয়ার সাধারণত আরাম ও মর্যাদার আলামত, তাওয়াজু ও বিনয়ের আলামত নয়।
প্রশ্ন ৬: নামাজ আদায়ের সাধারণ পদ্ধতি কী?
উত্তর: নামাজ আদায়ের পদ্ধতি হলো, নামাজের সকল আরকান, ওয়াজিব, সুন্নত, আদব এবং মুস্তাহাবগুলোর প্রতি যথাযথ খেয়াল রেখে নামাজ আদায় করা। দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা এবং রুকু-সিজদা যথানিয়মে আদায় করা।
প্রশ্ন ৭: নামাজের বৈঠকের বিধানের অর্থ কী?
উত্তর: নামাজের বৈঠকের বিধানের অর্থ হলো, জমিন বা সমতল জায়গায় বসা।
প্রশ্ন ৮: সিজদার গুরুত্ব ও পদ্ধতি সম্পর্কে হাদিস কী বলে?
উত্তর: সিজদা নামাজের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন। এর হাকীকত হলো - শরীরের উপরের অংশ নিচু হওয়া এবং পেছনের অংশ উঁচু হওয়া। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমাকে সাতটি অঙ্গ দ্বারা সিজদা করতে (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) আদেশ করা হয়েছে: ১. কপাল ও নাক। ২, ৩. দুই হাত। ৪, ৫. দুই হাঁটু। ৬, ৭. দুই পায়ের অঙ্গুলিসমূহ।" (সহীহ বুখারী, হাদিস ৮১২)। এই সাত অঙ্গ ব্যবহার করে সিজদা করলেই তা পরিপূর্ণ সিজদা হবে, যা নিচে বসে সমতল জায়গায় করার দ্বারাই আদায় হয়। চেয়ারে বসে এভাবে সিজদা করা সম্ভব নয়।
মাযূর ও অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ
প্রশ্ন ৯: মাযূর ও অসুস্থ ব্যক্তি কীভাবে নামাজ আদায় করবে?
উত্তর: ওজর ও অসুস্থ অবস্থায় কীভাবে নামাজ আদায় করতে হবে, এর শিক্ষা কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়তে রয়েছে। প্রয়োজন হলো, ওজরের সময় নামাজ আদায় করার পদ্ধতি-সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিধি-বিধানের ইলম যথাযথভাবে অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।
প্রশ্ন ১০: মামুলি ওজরের কারণে নিজেকে মাযূর মনে করা কি বৈধ?
উত্তর: না, মামুলি ওজরের কারণে নিজেকে মাযূর মনে করা বৈধ নয়। শরীয়তের মূলনীতি হলো, যতটুকু ওজর ততটুকু রুখসত বা ছাড়। এমন নয় যে, এক ওজরের কারণে সকল ফরয থেকেই অব্যাহতি।
প্রশ্ন ১১: ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-এর হাদিস থেকে অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ সম্পর্কে কী নির্দেশনা পাওয়া যায়?
উত্তর: ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "তুমি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে। দাঁড়িয়ে পড়তে সক্ষম না হলে বসে বসে নামাজ পড়বে। বসে পড়তেও সক্ষম না হলে কাত হয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করবে।" (সহীহ বুখারী, হাদিস ১১১৭)। এই হাদিস মৌলিক নির্দেশনা দেয় যে, কিয়াম করতে অক্ষম না হলে কিয়াম ফরজ, তেমনি কা'দা (বৈঠক) আদায়ে অক্ষম না হলে তা আদায় করা ফরজ।
কখন চেয়ারে বসে নামাজ জায়েয নয়?
প্রশ্ন ১২: সামান্য অসুস্থতা বা দুর্বলতার অজুহাতে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া কি জায়েয?
উত্তর: না, যে কোনো অসুস্থতার কারণেই চেয়ারে বসে নামাজ জায়েয হয়ে যায় না। বর্তমানে সামান্য অসুস্থতা, দুর্বলতা, হালকা ব্যথা-বেদনার অজুহাতে চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের প্রবণতা দেখা যায়, যা জায়েয নয়।
প্রশ্ন ১৩: অসুস্থ ব্যক্তি কখন বসে নামাজ পড়তে পারবে, এর মানদণ্ড কী?
উত্তর: আমর ইবনে মায়মূন (রা.)-এর পিতা মায়মূন ইবনে মেহরান (রা.) বলেছেন: "যখন সে তার দুনিয়াবী কাজের জন্য দাঁড়াতে পারে না, এ অবস্থায় পৌঁছলে সে বসে নামাজ পড়তে পারবে।" (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৪১২৬)।
প্রশ্ন ১৪: অক্ষমতার সংজ্ঞা কী?
উত্তর: অক্ষমতার প্রথম অর্থ হলো, কাজটির সামর্থ্যই না থাকা। আর যদি সামর্থ্য থাকে, কিন্তু এটি করলে সে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে বা এর কারণে তার রোগ বেড়ে যায় কিংবা এর কারণে তীব্র ব্যথা অনুভব করে অথবা এমনটি করলে তার রোগ নিরাময় হতে বিলম্ব হবে, এ অবস্থাগুলোই কেবল অক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। দাঁড়ালে অনেক বেশি ব্যথা হলেই কেবল না দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ আছে। শুধু কিছু ব্যথা বা কষ্ট লাগার কারণে কিয়ামের ফরজ ছেড়ে দেওয়া জায়েয হবে না।
প্রশ্ন ১৫: রোগ বেড়ে যাওয়া বা নিরাময় হতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি কীভাবে ফয়সালা করা হবে?
উত্তর: এই ফয়সালা শুধু ধারণা বা অনুমানের উপর নির্ভর করে করা যাবে না। বরং স্পষ্ট কোনো আলামত বা রোগীর পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা মুসলিম, অভিজ্ঞ, ভালো কোনো ডাক্তারের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তা নির্ণয় করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাক্তার মুসলিম হওয়া শর্ত, কারণ অমুসলিম ডাক্তারের কাছে নামাজের গুরুত্ব থাকবে না এবং নামাজের পদ্ধতি সম্পর্কেও তার ধারণা থাকবে না।
প্রশ্ন ১৬: যে ব্যক্তি কিয়াম, রুকু-সিজদা করতে সক্ষম, তার জন্য কি চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা জায়েয?
উত্তর: না, শরীয়তের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি মাযূর নয়, অর্থাৎ কিয়াম, রুকু-সিজদা করতে সক্ষম, তার জন্য জমিনে বা চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করাই জায়েয নয়। এমন করলে তার নামাজই হয় না।
প্রশ্ন ১৭: শুধু আরাম বা মামুলি কষ্টের বাহানায় চেয়ারে বসে নামাজ পড়লে কী হবে?
উত্তর: নামাজ আদায় হবে না, এমনকি জমিনে বসে পড়লেও আদায় হবে না।
প্রশ্ন ১৮: যার পায়ে বা কোমরে ব্যথা কিন্তু তা সহ্যের বাইরে নয়, সে কি চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবে?
উত্তর: না, তার জন্যও জমিনে বা চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন করলে নামাজ আদায় হবে না।
প্রশ্ন ১৯: অল্প অসুস্থতার অজুহাতে চেয়ারে বসে নামাজ পড়লে কী হবে?
উত্তর: নামাজ আদায় হবে না, যদি না অসুস্থতা এমন পর্যায়ে হয় যে, সে কিয়াম ও রুকু-সিজদা করে নামাজ পড়তে সক্ষমই নয়, বা এভাবে নামাজ পড়লে তার রোগ বেড়ে যাবে কিংবা রোগ নিরাময় হতে বিলম্ব হবে।
প্রশ্ন ২০: যে কিয়াম ও সিজদা করতে পারে কিন্তু তাশাহহুদের সুরতে বসতে পারে না, তার জন্য চেয়ারে বসে নামাজ পড়া কি জায়েয?
উত্তর: না, তার জন্যও চেয়ারে বসে নামাজ পড়া জায়েয নয়। সে যেভাবে সম্ভব বসেই জমিনে সিজদা করে নামাজ আদায় করবে এবং কিয়াম ও রুকুও যথানিয়মে আদায় করবে।
প্রশ্ন ২১: যে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম নয়, কিন্তু জমিনে বসতে ও সিজদা করতে পারে, তবে চেয়ারে বসলে সিজদা ও কা'দার জন্য জমিনে নামতে পারে না, তার জন্য চেয়ারে বসে নামাজ পড়া কি জায়েয?
উত্তর: না, তার জন্যও চেয়ারে বসে নামাজ পড়া জায়েয নয়। এমন ব্যক্তি যেহেতু সমতলে বসে সিজদার ফরজ আদায় করতে সক্ষম, তাই শুরু থেকেই সে জমিনে বা সমতলে বসে যথানিয়মে সিজদা করে নামাজ আদায় করবে, নতুবা তার নামাজ আদায় হবে না।
প্রশ্ন ২২: যে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে, বসতে এবং সিজদা করতে পারে, কিন্তু দাঁড়ানো অবস্থা থেকে বসতে পারে না বা বসলে দাঁড়াতে পারে না, তার জন্য চেয়ারে বসে পড়া কি জায়েয?
উত্তর: না, তার জন্যও চেয়ারে বসে পড়া জায়েয নয়। বরং সে পুরো নামাজ নিচে বসে আদায় করবে, যাতে যথানিয়মে জমিনে সিজদা করতে পারে, নতুবা তার নামাজ সহীহ হবে না।
নামাজের আংশিক চেয়ারে আদায় করার হুকুম
প্রশ্ন ২৩: যে কিয়াম করতে সক্ষম নয়, কিন্তু জমিনে বসতে ও সিজদা করতে পারে, সে যদি সিজদার সময় চেয়ারে বসে ইশারায় সিজদা আদায় করে, তবে তার নামাজ কি সহীহ হবে?
উত্তর: না, তার নামাজ সহীহ হবে না। এক্ষেত্রে সে পুরো নামাজই জমিনে বসে আদায় করবে। যদি সিজদা ও কা'দা জমিনে বসে যথানিয়মে আদায় করে কিন্তু কিয়াম ও রুকুর সময় চেয়ারে বসে, তবে নামাজ ফাসেদ না হলেও মাকরুহ হবে।
প্রশ্ন ২৪: যে কিয়াম করতে সক্ষম এবং দাঁড়ানো থেকে চেয়ারে বসতেও পারে, কিন্তু জমিনে কোনো পদ্ধতিতেই বসতে পারে না, তার জন্য কী বিধান?
উত্তর: সে যথানিয়মে দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করবে। এরপর স্বাভাবিকভাবে রুকু করতে পারলে রুকুও করবে। তারপর অবশিষ্ট নামাজ চেয়ারে বসে পড়বে। তবে কিয়াম করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও শুরু থেকেই চেয়ারে বসে নামাজ পড়া সহীহ নয়।
প্রশ্ন ২৫: যে জমিনে সিজদা করতে অক্ষম, তার ব্যাপারে হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত কী?
উত্তর: হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো, এমন ব্যক্তির উপর দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা জরুরি নয়; বরং সে বসে ইশারায় নামাজ আদায় করতে পারে। তবে, অনেক মুহাক্কিক ফকীহের দৃষ্টিতে এই মাসআলায় দলিলের বিচারে ফিকহে হানাফীর ঐ বক্তব্য বেশি শক্তিশালী, যা ইমাম আবু হানীফা (রা.)-এর শাগরিদ ইমাম যুফার ইবনে হুযাইল (রা.)-এর মাযহাব, এবং বাকি তিন ইমামেরও (ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল) মাযহাব। সেটি হলো, এমন ব্যক্তি যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে সক্ষম হয়, তাহলে তাকে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করতে হবে। আর যেহেতু সে সিজদা করতে অক্ষম, তাই সে ইশারায় সিজদা করবে।
প্রশ্ন ২৬: যে কিয়াম ও রুকু করতে সক্ষম এবং সরাসরি জমিনে বসতে পারে, কিন্তু জমিনে সিজদা করতে পারে না, তার জন্য কী বিধান?
উত্তর: সে কিয়াম ও রুকু যথানিয়মেই আদায় করবে। এরপর জমিনে বসে যাবে। ইশারায় সিজদা আদায় করবে এবং তাশাহহুদ জমিনে বসেই আদায় করবে। এমন ব্যক্তি যেহেতু মাটিতে বসতে পারে, তাই তার জন্য জমিনে কা'দা-এর পরিবর্তে চেয়ারে বসা মাকরুহ তাহরীমী, যা পরিহার করা কর্তব্য।
প্রশ্ন ২৭: যে কিয়াম করতে সক্ষম নয়, কিন্তু জমিনে বসতে ও সিজদা করতে পারে, সে যদি চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করে এবং সিজদার জন্য চেয়ার থেকে নেমে মাটিতে সিজদা করে, তবে তার নামাজ কি সহীহ হবে?
উত্তর: এক্ষেত্রে তার সিজদা যথানিয়মে আদায় হলেও কা'দা অর্থাৎ বৈঠক চেয়ারে আদায় করার কারণে নামাজ মাকরুহ তাহরীমী হবে, যা পরিহার করা কর্তব্য।
পুরো নামাজ যার জন্য চেয়ারে বসে পড়া জায়েয
প্রশ্ন ২৮: কোন ধরনের অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পুরো নামাজ চেয়ারে বসে আদায় করা জায়েয?
উত্তর: যে ব্যক্তি নামাজের কিয়াম, রুকু-সিজদা ও কা'দা (তাশাহহুদের জন্য বসা) কোনোটিই স্বাভাবিকভাবে আদায় করতে সক্ষম নয়; বরং শুধু চেয়ারেই বসতে পারে, কেবল এমন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পুরো নামাজ চেয়ারে বসে আদায় করা জায়েয।
প্রশ্ন ২৯: এই ক্ষেত্রে কী বিষয় লক্ষণীয়?
উত্তর: এই ব্যক্তি যে কিয়াম, রুকু-সিজদা ও কা'দা সবগুলোই যথানিয়মে স্বাভাবিকভাবে আদায় করতে সক্ষম নয়, তা বাস্তবসম্মত ও সুপ্রমাণিত হতে হবে। এর জন্য ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি কোনো মুফতি সাহেবকে নিজের অবস্থা পুরোপুরি জানিয়ে তার থেকে মাসআলা নিয়ে সে অনুযায়ী আমল করবে। নতুবা নিজে নিজে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে কখনো নামাজ নাও হতে পারে।
প্রশ্ন ৩০: সংক্ষেপে, চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের বিকল্প পদ্ধতিগুলো কী?
উত্তর:
- যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে অক্ষম, তার জন্য বিকল্প পদ্ধতি হলো, জমিনে বসে তা আদায় করা।
- যে রুকু-সিজদা করতে অক্ষম, তার জন্য বিকল্প পন্থা হলো, ইশারায় রুকু-সিজদা আদায় করা।
- যে ব্যক্তি জমিনে বসতে অক্ষম, তার জন্য জমিনে বসে কা'দা আদায়ের বিকল্প হলো চেয়ারে বসা।
- শুধুমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় ওজরের কারণে চেয়ারে বসা জায়েয নয়।
চেয়ারে বসে নামাজের ক্ষেত্রে সিজদা আদায়ের পদ্ধতি
প্রশ্ন ৩১: যে ব্যক্তি জমিনে সিজদা করতে অক্ষম, সে কীভাবে সিজদা করবে?
উত্তর: সে ইশারায় সিজদা আদায় করবে। সামনে তখতা বা টেবিল রেখে তাতে সিজদা করবে না। কারণ সিজদার জন্য সামনে টেবিল বা উঁচু বস্তু রাখা এবং তাতে সিজদা করার কোনো বিধান হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। উল্লেখ্য, ইশারায় সিজদা আদায় করার নিয়ম হলো, রুকুর জন্য মাথা যতটুকু ঝোঁকাবে, সিজদার জন্য তার চেয়ে একটু বেশি ঝোঁকানো।
প্রশ্ন ৩২: ইশারায় সিজদা করার সময় হাত কোথায় রাখবে?
উত্তর: ইশারায় সিজদা করার সময় হাত হাঁটুতেই রাখবে। কেউ কেউ তখন জমিনে সিজদা করার মতো হাত চেহারা বরাবর রাখে, এটি ভুল নিয়ম।
প্রশ্ন ৩৩: বর্তমানে মসজিদগুলোতে চেয়ারের ভিড় বৃদ্ধির কারণ কী?
উত্তর: অধিকাংশ ক্ষেত্রে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা একেবারেই নাজায়েয। এর কারণ হলো, মাসআলা জানা না থাকার কারণে এমন অনেক মুসল্লীও নামাজে চেয়ার ব্যবহার করে থাকেন, যাদের জন্য নামাজে চেয়ার ব্যবহার জায়েযই নয়।
প্রশ্ন ৩৪: মসজিদগুলোতে চেয়ারের ব্যবহার কমানোর জন্য কী করা উচিত?
উত্তর: সম্মানিত মুসল্লীবৃন্দ যদি হিম্মত করে শরয়ী ওজর ব্যতীত নামাজে চেয়ার ব্যবহার পরিত্যাগ করেন এবং নামাজে চেয়ার ব্যবহারকে শরয়ী রুখসত (শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত ছাড়) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখেন, তাহলে মসজিদগুলোতে চেয়ারের এই ভিড় হ্রাস পাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন ৩৫: চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত?
উত্তর: যেই কঠিন প্রয়োজনে নামাজে চেয়ার ব্যবহারের সুযোগ বের হয়ে আসে, সেক্ষেত্রে উঁচু মোড়া বা টুল ব্যবহারে কাজ হয়ে গেলে চেয়ার ব্যবহার করবে না। তেমনিভাবে হাতলবিহীন চেয়ারে যদি কাজ সেরে যায়, তাহলে হাতলযুক্ত চেয়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন